মার্চ ২০, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। যারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থান করতে চান তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যেমন কাজ চলছে, তেমনি যারা দেশে ফিরতে আগ্রহী তাদের সরকারি খরচে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একই অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যুদ্ধকালীন হামলায় নিহত প্রবাসীদের পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।
তিনি জানান যে সংঘাতের কারণে প্রাণ হারানো রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে তিন লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। এ ছাড়া নিহতদের সন্তানদের পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকার বহন করবে এবং ভবিষ্যতে তাদের পরিবারকে আরও বড় ধরণের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রীর এই ঘোষণা প্রবাসীদের পরিবারগুলোর জন্য এক ধরণের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে সৌদি আরবের আলখারাজ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের মরদেহ বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন সরকারের এই দুই উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি। তারা নিহতের কফিনে শ্রদ্ধা জানান এবং উপস্থিত স্বজনদের সান্ত্বনা দেন। আট বছর ধরে প্রবাসে কর্মরত মোশাররফের নিথর দেহ আজ সকালেই বিশেষ বিমানে ঢাকা পৌঁছায়। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রবাসীদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো চব্বিশ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই তৎপরতা প্রবাসীদের মাঝে যেমন স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন