রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাতীয় ঈদগাহের মোনাজাতে মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২১, ২০২৬, ১১:০০ এএম

জাতীয় ঈদগাহের মোনাজাতে মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান

নামাজে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ঈদ জামাতটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কারণ দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এই প্রথম জাতীয় ঈদগাহে একইসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের এই উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঈদগাহ ময়দানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নামাজ শেষে তাঁরা উভয়েই সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ও বিশেষ খুতবা শেষে এক দীর্ঘ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে খতিব বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর চলমান নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ সাহায্য প্রার্থনা করেন। 

বর্তমানে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়িত মুসলমানদের সুরক্ষায় সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। মোনাজাতে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিশ্বের অনেক দেশে মুসলিমরা আজ চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রকে জরুরি ভিত্তিতে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।

এদিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও সকাল থেকে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল সাতটা থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে পাঁচটি জামাত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি জামাত শেষে মোনাজাতে মুসল্লিরা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নিজেদের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। 

রমজান মাসের সংযম ও ত্যাগের শিক্ষা যেন সারাবছর মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হয় সেই তৌফিকও প্রার্থনা করা হয়। নামাজ শেষে ঈদগাহ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে সর্বস্তরের মানুষ একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এখন অনাবিল আনন্দের জোয়ার বইছে এবং মানুষের প্রধান প্রার্থনা ছিল বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা।