মার্চ ২৫, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
একাত্তরের ২৫শে মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় শুরু হয়। অপারেশন সার্চলাইট নামক এই পরিকল্পিত সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া।
সেই রাতে ঢাকা শহরজুড়ে যে ভয়াবহতা নেমে এসেছিল, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত। মধ্যরাতে ট্যাংক এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, যার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ছাত্রাবাসগুলোতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অসংখ্য ছাত্র ও শিক্ষককে হত্যা করা হয়। জগন্নাথ হল, ইকবাল হল এবং শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় চালানো সেই তাণ্ডব আজও স্বাধীনতাকামী মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে।
কেবল বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও পিলখানায় তৎকালীন ইপিআর সদর দপ্তরেও পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় হানাদার বাহিনী। আগুনের লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত হয় শত শত বাড়িঘর এবং বস্তি এলাকা। সেই বিভীষিকাময় রাতে সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। নিরস্ত্র মানুষের আর্তনাদ আর বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছিল ঢাকার আকাশ।স্বাধীনতার ৫ দশকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এই কালরাতের স্মৃতি আজও অম্লান।
ঐতিহাসিকদের মতে, এই আক্রমণ কেবল সামরিক অভিযান ছিল না বরং এটি ছিল একটি জাতির পরিচয় ও অস্তিত্ব মুছে ফেলার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই সঠিক ইতিহাস এবং ত্যাগের মহিমা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। ২৫ মার্চের এই নির্মমতা আমাদের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন হওয়ার প্রেরণা যোগায়। ইতিহাসের এই দায়ভার বহন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা এবং গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন