এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংশোধন করে দেশে ই-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রির ওপর থাকা বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সংসদীয় এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বর্তমানে একটি খসড়া প্রস্তুত করছে, যেখানে ই-সিগারেট সংক্রান্ত পূর্বের কঠোর বিধিনিষেধগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। এই খসড়াটি খুব শীঘ্রই লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিগত সরকারের আমলে ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল।
বিশেষ করে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বেন্ডস্টা গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নিষেধাজ্ঞাকে অবাস্তব বলে দাবি করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS) এখন তামাকের ক্ষতি হ্রাসের একটি স্বীকৃত মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারা বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে, এটি সাধারণ সিগারেট ছাড়ার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বেন্ডস্টার নেতারা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএসের উদাহরণ টেনে জানান, সেখানে ধূমপায়ীদের ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে ই-সিগারেটকে দেখা হয়। ককরেনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিকোটিনযুক্ত ই-সিগারেট সাধারণ নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ কার্যকর। বেন্ডস্টা মনে করে, সরকারের এই নতুন উদ্যোগ নিষেধাজ্ঞা থেকে নীতিনির্ভর নিয়ন্ত্রণের দিকে একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।
সরকারের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক যুক্তিও জোরালো হচ্ছে। বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান জানান, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তরুণরা ই-সিগারেট ব্যবহার বন্ধ করেনি, বরং অবৈধ পথে এসব পণ্য দেশে আসছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বাজারটি সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত ও তদারকিহীন অবস্থায় রয়েছে।
তিনি মনে করেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ফলে একটি বিশাল কালোবাজার গড়ে ওঠে, যা তরুণদের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এর পরিবর্তে কঠোর মনিটরিং, লাইসেন্সভিত্তিক বিক্রয় এবং বয়স যাচাইয়ের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব—উভয় দিক থেকেই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, নতুন আইনের মাধ্যমে ই-সিগারেট বাজার একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আসবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন