অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর)। তামাক ব্যবহারের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাকমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছর দিবসটি দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ই-সিগারেট বা ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন’।
প্রতি বছরের মতো এবারও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)। বুধবার (৭ অক্টোবর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন তামাকবিরোধী সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে দেশজুড়ে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার, মানববন্ধন এবং অবস্থান কর্মসূচিসহ নানামুখী সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাটা জানিয়েছে, দেশের হাসপাতালগুলোতে ক্যানসারসহ মারাত্মক সব অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে তা চরম উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রায় সাত হাজার ক্যানসার রোগীর কেমোথেরাপির সিরিয়াল ইতিমধ্যে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঠেকেছে। এমন নাজুক প্রেক্ষাপটে তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিকোটিনের আগ্রাসী থাবা থেকে সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ ই-সিগারেট বা ভ্যাপ এবং সমস্ত নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীকালে আইন সংশোধনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় সুকৌশলে সেই জরুরি ধারাটি বাতিল করা হয়।
সংগঠনটি জানায়, ই-সিগারেট বা ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের অবাধ বিস্তার বর্তমান জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক বিধ্বংসী হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ও গবেষণা পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা জানায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ই-সিগারেট ব্যবহারকারীর হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ। অথচ ২০২৬ সালে এসে তরুণ ধূমপায়ীদের মধ্যে এই ই-সিগারেট ব্যবহারের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক ৪২ শতাংশে। অত্যন্ত আসক্তিকর এসব পণ্য ক্যানসারসহ বহুবিধ দীর্ঘমেয়াদী অসংক্রামক রোগের ভয়াবহ ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
বাটা ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছে, প্রচলিত তামাকজাত পণ্যই যেখানে কোটি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি হুমকি, সেখানে নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা না থাকার সুযোগ নিচ্ছে মুনাফালোভী চক্র। এর ফলে দেশে এসব পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষত কৌতূহলী শিশু ও কিশোর-তরুণদের এই মরণফাঁদে আকৃষ্ট করা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনস্বাস্থ্য নীতি তুলে ধরে জোটটি জানায়, উন্নত দেশগুলোতে তামাক ও নিকোটিন আগ্রাসন রুখতে কঠোর প্রতিরোধমূলক আইন কার্যকর করা হচ্ছে। যেমন ইংল্যান্ডে ২০২৬ সালে একটি ঐতিহাসিক আইন পাস করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো পর্যায়ক্রমে একটি সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলা। সেই আইন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো ধরনের তামাকজাত পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ২০২৭ সাল থেকে দেশটিতে পুরোপুরি কার্যকর হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে মাত্র তিনটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানিকে ব্যবসায়িক অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য ই-সিগারেটের মতো ভয়াবহ পণ্যের বাজার বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাটা। জনস্বাস্থ্য রক্ষা, সংক্রামক-অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ এবং তরুণ সমাজকে নিকোটিন আসক্তি থেকে বাঁচাতে প্রচলিত আইনের কঠোর সংস্কার করে ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও সব ধরনের বিকল্প নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন