এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কঠোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক সনদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যে অঙ্গীকার করেছে, তার প্রত্যেকটি শব্দ ও অক্ষর এক এক করে বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার বিকেলে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল।
সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ধাপে ধাপে আন্দোলন গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী শাসক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এর মাধ্যমেই এ দেশের মানুষ তাদের হারানো ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে।সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে উন্নয়নের নামে বড় বড় প্রকল্প সাজিয়ে লুণ্ঠন ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। উন্নয়নের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের সাধারণ মানুষ নিজের চোখে দেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকারের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটিয়েছে এবং বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সরকার গঠনের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের মাত্র দশ দিনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে দেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। এ ছাড়া মসজিদ, এতিমখানা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানি চালুর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা ও খরা মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে এবং এর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে, যা খুব শীঘ্রই ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল বর্তমানে শুধুমাত্র সংবিধান ইস্যুকে সামনে এনে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
অথচ তারা স্বাস্থ্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বা নারী উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো নিয়ে কোনো কথা বলছে না। এর মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরণের কোনো বিভ্রান্তির ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বগুড়ার উন্নয়নে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণ, কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য কার্গো সুবিধা এবং বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি ও চিকিৎসা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। জনসভা শেষে তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত বাইতুর রহমান মসজিদের সংস্কার কাজের সূচনা করে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি শেরপুরের পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতেও (আরডিএ) কিছু সময় অবস্থান করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন