সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
জনগণের সঙ্গে নিবিড় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা করে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের এই মুহূর্তের সর্বপ্রধান অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই কথা জানান। এবারের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে `রেইজিং হ্যান্ডস অ্যান্ড ভয়েসেস- ফস্টারিং এজেন্সি অ্যান্ড ওনারশিপ থ্রু ডেলিবারেটিভ ডেমোক্র্যাসি`।
সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো রাষ্ট্রে ও সমাজে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পাশাপাশি সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা।
কেবল ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যে গণতন্ত্র সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে জনগণের প্রকৃত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই বর্তমান সরকার জনগণের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং গণতন্ত্রকে সংকুচিত করা হয়েছিল। তবে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করে মানুষের বাক, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বীর ছাত্র-জনতার এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দল সরকারে বা বিরোধী দলে যে অবস্থানেই থাকুক না কেন, সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে অবিচল থেকেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, উদার রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সামাজিক স্থিতি ও ন্যায়পরায়ণতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। পরিশেষে তিনি বিশ্ববাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর বাণী সমাপ্ত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন