রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

সাতসকালে ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:১১ এএম

সাতসকালে ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা

সকালে ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা

মঙ্গলবার ভোরের শান্ত আকাশ তখনও পুরোপুরি ফর্সা হয়নি। ঠিক সেই সময়েই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে এই কম্পন রেকর্ড করা হয়। হঠাৎ এই ঝাঁকুনিতে অনেকেরই ঘুম ভেঙে যায় এবং আতঙ্কিত হয়ে অনেকে দ্রুত ঘরের বাইরে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। 

যদিও কম্পনটি ছিল অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী, তবুও সাতসকালের এই প্রাকৃতিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা আর্থকোয়ার্ক ট্র্যাক-এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। 

এর উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন এলাকায়। এই স্থানটি মূলত ভারতের মণিপুর সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। মাটির প্রায় ৬৬ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হয়েছিল বলে জানা গেছে। 

ভূ-গর্ভের বেশ গভীরে হওয়ার কারণে ভূপৃষ্ঠে এর তীব্রতা খুব বেশি অনুভূত হয়নি, যা একটি বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি থেকে এই অঞ্চলকে রক্ষা করেছে।রাজধানীর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকালের এই কম্পন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। উঁচু ভবনের বাসিন্দারা দুলুনি বেশি অনুভব করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে জানিয়েছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ সরাসরি কোনো প্রধান চ্যুতিরেখার ওপর অবস্থিত না থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। 

মিয়ানমার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সক্রিয় টেকটনিক প্লেটগুলোর মধ্যে মাঝেমধ্যেই শক্তির যে নিঃসরণ ঘটে, তার প্রভাবে বাংলাদেশেও মৃদু থেকে মাঝারি কম্পন অনুভূত হওয়া একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোরের এই মৃদু কম্পন মূলত আমাদের বড় কোনো দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা দেয়। 

যেহেতু এই অঞ্চলের মাটির নিচে ইন্ডিয়ান এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে, তাই এ ধরণের কম্পন হলে ভবন নির্মাণে আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। মঙ্গলবারের এই ভূমিকম্পের পর জনমনে স্বস্তি ফিরলেও দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।