শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টার কিছু আগে এ কম্পন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সময় তখন শনিবার রাত প্রায় ৩টা। ভূকম্পনে বিভিন্ন এলাকার বহু ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেনোনোমে ও সোনাসহ একাধিক শহরে স্থাপনা ধসের খবর পাওয়া গেছে। তবে দুর্যোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষের ভূখণ্ডজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, দক্ষিণ-মধ্য পানামার পিতালোজা আরিবা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ছিল এই কম্পনের মূল উৎপত্তিস্থল। ভূগর্ভের মাত্র ১২ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্র অবস্থিত হওয়ায় ঝাঁকুনি ছিল অত্যন্ত তীব্র। বিস্তৃত এলাকা এই অগভীর কম্পনের অভিঘাতে কেঁপে ওঠে।

ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় ভবন ভেঙে পড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। পেনোনোমে শহরে একটি প্রাচীন গির্জার এক পাশ ও একটি চূড়া ভেঙে পড়ে। অন্য একটি এলাকায় স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেল ধসে পড়ার তথ্য মেলে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে। তবে ভেতরে কারও আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। দেশজুড়ে ঠিক কতগুলো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি।

দক্ষিণাঞ্চলীয় হেরেরা প্রদেশের লাস মিনাস এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা রিকার্ডো ব্রাউন জানিয়েছেন, প্রতিবেশীদের একের পর এক বসতবাড়িতে তীব্র ফাটল তৈরি হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সী এই প্রবীণ বলেন, "আমরা আতঙ্কিত। এখানে আমরা দুজন বয়স্ক মানুষ থাকি। বাড়িতে ফাটল ধরেছে। ভয় হচ্ছে, এটি আমাদের ওপর ধসে পড়তে পারে।"

উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজধানী পানামা সিটিতেও প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত বিভিন্ন বহুতল ভবন থেকে বাসিন্দাদের খালি করে দেওয়া হয়। কম্পন থেমে গেলেও আতঙ্কে অনেকে ঘরের ভেতরে না ফিরে দীর্ঘ সময় খোলা রাস্তা ও পার্কে অবস্থান নেন। ঘটনার পর বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং আকাশপথে বিমান চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকার খবর সামনে এলেও পরিস্থিতি কতক্ষণ স্থায়ী ছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।