শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নিয়ম ভেঙে সংসদের অধিবেশন কক্ষে কিছু খাচ্ছিলেন এক এমপি, ধরে ফেললেন স্পিকার

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

নিয়ম ভেঙে সংসদের অধিবেশন কক্ষে কিছু খাচ্ছিলেন এক এমপি, ধরে ফেললেন স্পিকার

সংসদ অধিবেশনে স্পিকার

জাতীয় সংসদের মূল অধিবেশন কক্ষে নিয়ম ভেঙে খাওয়ার চেষ্টা করায় এক সংসদ সদস্যের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় শৃঙ্খলা ও মর্যাদা রক্ষায় স্পিকারের এই কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত সংসদের মূল কক্ষে খাওয়া-দাওয়া, চা-পান বা অন্য কোনো ভোজনমূলক কাজ করার নিয়ম নেই, যা সংসদীয় রেওয়াজ ও মর্যাদার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকেলের অধিবেশনে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর আসনে বসে কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় হঠাৎ লক্ষ্য করেন, একজন সংসদ সদস্য তাঁর আসনে বসে কিছু একটা খাচ্ছেন। 

বিষয়টি দূর থেকে দেখার সাথে সাথেই স্পিকার মাইক অন করে ওই সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ না করেই সরাসরি প্রশ্ন করেন তিনি আসলে সেখানে কী খাচ্ছেন। স্পিকার কৌতূহলী ও কঠোর স্বরে জানতে চান যে ওই সংসদ সদস্য চা পান করছেন কি না।

জবাবে ওই সংসদ সদস্য তড়িঘড়ি করে জানান যে তিনি কোনো খাবার নয়, বরং কেবল কিছুটা গরম পানি পান করছেন। সংসদ সদস্যের এমন উত্তরে স্পিকার কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্ষুব্ধ স্বরে মন্তব্য করেন, ‘পরে আরও কী খাবেন, গড নোজ’ (ঈশ্বর জানেন)। স্পিকারের এমন মন্তব্যে অধিবেশনে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কিছুটা হাসির রোল পড়ে। তবে ঠিক কোন সংসদ সদস্য এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন, সংসদ টিভির ক্যামেরা সেই সময় ওই আসনের দিকে না ঘোরায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংসদে খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে কার্যপ্রণালী বিধিতে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ না থাকলেও ৩১১ নম্বর বিধি অনুযায়ী, সংসদ কক্ষটি সংসদের বৈঠক ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। যেহেতু কোনো কিছু পান করা বা খাওয়া সংসদীয় বৈঠকের আনুষ্ঠানিক অংশের মধ্যে পড়ে না, তাই অধিবেশন চলাকালে এমন কাজকে বিধিবহির্ভূত ও অসদাচরণ হিসেবেই গণ্য করা হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের সুদীর্ঘ ইতিহাসে অধিবেশন কক্ষে বসে খাওয়ার কোনো নজির নেই।

জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে সংসদ সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া ও ডাইনিং সুবিধা রয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট বিরতিতে বা অধিবেশনের বাইরে খাবার গ্রহণের সুযোগ থাকলেও মূল কক্ষের গাম্ভীর্য বজায় রাখতে সেখানে কেবল বক্তব্য ও সংসদীয় কার্যক্রমের অনুমতি থাকে। স্পিকারের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সংসদ সদস্যদের আচরণ ও সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।