রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাম রোগীর চাপে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

হাম রোগীর চাপে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সকল সরকারি হাসপাতালকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত পাঠানো যাবে না এবং প্রয়োজনে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই জরুরি আদেশ জারি করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকলেও রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া চলবে না। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। শুধুমাত্র অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রোটোকল মেনে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা যাবে। 

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয় যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত নির্ধারিত রেফারাল চেইন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে দায় নিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৯০ শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে সারাদেশে প্রায় ২৭ হাজার ১৬৪ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৯৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে ৩ হাজার ৯৩৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।হামের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতিপূর্বেই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। 

পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরসহ মোট চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হামের টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন দ্রুত টিকাদান সম্পন্ন করা এবং আক্রান্তদের সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা গেলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সকল অভিভাবককে সচেতন হওয়ার এবং শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।