রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাংস বিক্রেতাদের জন্য নতুন নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

মাংস বিক্রেতাদের জন্য নতুন নির্দেশনা

রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ও নতুন একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এখন থেকে সংস্থাটির আওতাধীন এলাকায় পশু জবাই এবং মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ডিএসসিসি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ এবং ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২১’ এর ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। 

ডিএসসিসি এলাকার প্রতিটি গবাদি পশুর মাংসের দোকান থেকে প্রতিবার পশু জবাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট হারে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। মূলত মাংসের মান নিশ্চিত করা এবং জবাই প্রক্রিয়াকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতেই এই উদ্যোগ।

নতুন এই নির্দেশনায় গবাদি পশুর ধরন অনুযায়ী আলাদা আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ছাগল বা ভেড়া জবাইয়ের জন্য ১০ টাকা ফি দিতে হবে। বড় পশুর ক্ষেত্রে গরুর জন্য ৫০ টাকা এবং মহিষের জন্য ৭৫ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মাংস ব্যবসায়ীদের এই নির্দেশনা অবিলম্বে মেনে চলার জন্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই নিয়ম কেবল ফি আদায়ের জন্য নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। অনেক সময় অবৈধভাবে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করার অভিযোগ পাওয়া যায়, যা এই নির্দেশনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। যথাযথ ফি পরিশোধ করে পশু জবাই করলে সেই মাংসের গুণগত মান নিশ্চিত করতে তদারকি করা সহজ হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেউ যদি এই ফি প্রদানে অবহেলা করেন বা নির্দেশনা অমান্য করে পশুর মাংস বিক্রি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে জরিমানাসহ দোকানের লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর মাংসের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।