বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জনসভায় যোগ দিতে আজ যশোরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

জনসভায় যোগ দিতে আজ যশোরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রীর আগমনী তোরণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ তিনি যশোর পৌঁছাবেন এবং দিনভর একাধিক রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তাকে বরণ করে নিতে যশোর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও জেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনগুলো সব ধরনের আয়োজন চূড়ান্ত করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে গোটা যশোরে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ও জনসভা নির্বিঘ্ন করতে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ। 

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসভাস্থল ও যাতায়াতের পথে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারাও এই কর্মসূচি সফল করতে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

যশোর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশাল এই জনস্রোত সামাল দিতে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। জনসভা ঘিরে আগত বাস, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ প্রায় পাঁচ হাজার যানবাহনের জন্য ১০টি আলাদা পার্কিং স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে পৃথক ব্যবস্থা। শহর ও শহরতলির পাশাপাশি গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত প্রচার ও মাইকিং চালানো হচ্ছে।

যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও উন্নয়ন প্রত্যাশা নিয়ে এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জ্বল হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শার্শার উলশী খাল পুনর্খনন প্রকল্পের সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এরপর যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, যশোরে একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সুধীজনরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক কার্গো বিমানবন্দরে রূপান্তরের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানিয়েছেন, জনসভায় বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলা ছাড়াও খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। শান্তিপূর্ণভাবে ঐতিহাসিক এই জনসভা সফল করতে ট্রাফিক বিভাগ ও প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে সাধারণ মানুষ বুক বেঁধেছেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে উন্নয়নের এই বার্তা সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করবে।