এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড মূলত রাষ্ট্রের একটি বিনিয়োগ এবং এর ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না বরং কমে আসবে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে এবং স্থানীয় শিল্প বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। সদস্য তার প্রশ্নে ৪ কোটি ফ্যামিলি কার্ড ও পৌনে ৩ কোটি কৃষক কার্ডের বিশাল ব্যয়ের ফলে অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনবে। এটি একবারে করা কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং বাজেটের সক্ষমতা অনুযায়ী কার্ডের সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। ফলে জাতীয় বাজেটের ওপর হঠাৎ কোনো বড় চাপ পড়ার আশঙ্কা নেই।সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচির সহযোগিতা ফ্যামিলি কার্ডের তুলনায় অনেক কম। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা পাচ্ছেন। সরকার গবেষণার মাধ্যমে এ ধরনের পুনরাবৃত্তিগুলো কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। সুবিধাভোগীদের তালিকা পরিমার্জন করে প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
মূল্যস্ফীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই কার্ডের জন্য বাড়তি টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া হবে না। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা মূলত গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যবহৃত হবে। সাধারণ মানুষ এই টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় ও দেশি পণ্য ক্রয় করবেন, যা স্থানীয় শিল্পায়নে গতি ফেরাবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পরিবর্তে কমে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যাতে সব বর্জ্যকে `জিরো বর্জ্য` তে রূপান্তর করা যায়।
বায়ুদূষণ রোধে সাভার উপজেলাকে `অবনমিত বায়ুমণ্ডল` (ডেগ্রেডেড এয়ারশেড) ঘোষণা করার তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ইটভাটা পরিচালনা ও উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস নামানোর পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটা বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীমুখী মানুষের স্রোত কমানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে সব সুযোগ-সুবিধা ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে শহরে আসছে। সরকার এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্পাঞ্চল, উন্নত চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ করছে। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার ওপর মানুষের চাপ ধীরে করিবে কমবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন