বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করবে সরকার: সংসদে মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করবে সরকার: সংসদে মন্ত্রী

স্বাধীনতার এত বছর পার হলেও মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ও গণহত্যার শিকারদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান। তিনি বলেন, সরকার এখন শহিদদের একটি নির্ভুল তালিকা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সব শহিদের একটি গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এর ফলে তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। 

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহিদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছয় হাজার ৪৮০ জন।মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বেসামরিক গেজেট তিন হাজার ৬৯৮ জন। 

এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনী শহিদ গেজেট এক হাজার ৫৪১ জন, শহিদ বিজিবি গেজেট ৮১৭ জন, শহিদ পুলিশ গেজেট ৪২৩ জন এবং শহিদ আনসার বাহিনী গেজেটভুক্ত রয়েছেন একজন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশে ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট ও মুক্তিবার্তা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ৪৮১ জনের গেজেট।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে জানান, দেশে বর্তমানে ১১ হাজার ৫ জন সার ডিলার নিয়োজিত রয়েছেন। কৃষকদের মাঝে নিরবচ্ছিন্নভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ২ হাজার ৩১১ জন ডিলারের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এই অভিযুক্তদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। 

অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং শূন্য পদে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার ফলে দেশে ১৫ হাজার ৪৫০ একর জমি আবাদ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এটি কৃষি উৎপাদনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে ৫৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে পর্যটন খাতে প্রায় দুই কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার একটি পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।