এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
বর্তমান সংসদকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হবে এমন একটি সংসদ যা বাংলাদেশের অতীতে কখনো দেখা যায়নি। এই সংসদে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষ দেশের স্বার্থে একত্রে কাজ করবে এবং কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইবে না।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব ও ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। এই সংসদের কেউ শয়নে-স্বপনে ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চায় না। তাঁর বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে সংসদে গৃহীত হয়।
বর্তমান বাংলাদেশ ও সংসদ একাত্তরের মতো হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদল ও সরকারি দলের মধ্যে অনেক বিষয়ে দ্বিমত থাকবে। সংসদে ডিবেট ও আলোচনা হবে, তবে কোনোভাবেই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সরকারকে ব্যর্থ করতে অতীতে ১৭৩ দিন হরতাল ডাকার ফলে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তার মাশুল বছরের পর বছর দিতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিরোধীদলের নেতার সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে এবং দ্বিমত থাকা বিষয়গুলো নিয়ে বিরোধীদলের সদস্যদের সঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। পপুলার ডিসিশনের পরিবর্তে সঠিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আগামী অধিবেশনে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইটি সেক্টরের উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই হবে আলোচনার মূল বিষয়। তিনি জানান, পৃথিবীর সব দেশে গণতন্ত্রের স্বীকৃত বিষয় হচ্ছে একমত হওয়ার জন্যই দ্বিমত পোষণ করা। তিনি আরও জানান, জিডিপির বড় একটি অংশ এখন থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে।
জনসাধারণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, কৃষক ভাইদের জন্য ইতিমধ্যে কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে বিরোধীদলের উদ্বেগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল পরিবেশে পড়াশোনা করেছেন এবং চান দেশের সন্তানরা একটি সুন্দর পরিবেশে শিক্ষা লাভ করুক।
শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে স্কুলব্যাগ, ড্রেস ও জুতা সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে ডিগ্রি পর্যন্ত নারী শিক্ষাব্যবস্থা অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের তাপ বাংলাদেশেও লেগেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিরোধীদলের প্রস্তাব অনুযায়ী যৌথ কমিটির মাধ্যমে এ সমস্যার সুরাহা বের করা হবে।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বিরোধীদলের লক্ষ্য ও গন্তব্য একই। সমৃদ্ধশালী, স্বনির্ভর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন