মে ১, ২০২৬, ১২:২৪ এএম
বর্তমান সংসদকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই সংসদ হবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব ও ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ধন্যবাদ প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে সংসদে গৃহীত হলেও বিরোধী দল এতে ‘না’ ভোট দেয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, এই সংসদ ও বর্তমান বাংলাদেশ একাত্তরের মতো হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে অনেক বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, ডিবেট বা আলোচনা হতে পারে, কিন্তু সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। অতীতে সরকারকে ব্যর্থ করতে ১৭৩ দিন হরতাল ডাকার ফলে দেশের যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তার মাশুল দীর্ঘ সময় ধরে দিতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদকে পুরো বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের সফলতা মানেই ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থে সমাধান বের করতে প্রয়োজনে বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে বসার ঘোষণা দেন তিনি। সংসদ নেতা হিসেবে তিনি প্রস্তাব করেন, আগামী অধিবেশনে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর তিনি জোর দেন।
শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া আগামী জুলাই মাস থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্কুলব্যাগ, পোশাক ও জুতা সরবরাহ করা হবে। মেধাভিত্তিক উপবৃত্তির ব্যবস্থাও সচল রাখা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হয়। নিজের প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দেখে তাঁর মনে সংকল্প তৈরি হয়েছিল যে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও এমন সুযোগ-সুবিধা পাবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের মানুষের কষ্টের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী ইতিমধ্যে জ্বালানি সমস্যা সমাধানে যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আইটি সেক্টরের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই এগিয়ে আসতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং বৈশ্বিক উত্তাপের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় উভয় পক্ষের আলোচনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
নারী উন্নয়নে বিগত বিএনপি সরকারের পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেককে পেছনে ফেলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্যই ডিগ্রি পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করা হয়েছে। জিডিপির বড় একটি অংশ এখন থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার অঙ্গীকার করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, সরকারি ও বিরোধী দলের লক্ষ্য ও গন্তব্য একই—একটি সমৃদ্ধশালী, স্বনির্ভর এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন