রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মে ১০, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন: প্রধানমন্ত্রী

রাজারবাগে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেডে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশের মূল কাজ হচ্ছে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন করা।

ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অন্ধকারের সময় পেরিয়ে এখন নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। 

জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।তারেক রহমান বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত এবং মানবিক। এই সম্পর্ক হতে হবে আস্থা ও নির্ভরতার। যেকোনো বিপদে-আপদে জনগণ যেন থানা পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে, এমন পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। মালিক যখন বিপদে পড়ে থানায় যান, সেখানে আপনাদের আচরণে যেন তারা সেই মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। আইনি সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষ প্রথমেই থানায় আসে এবং পুলিশের সহায়তা চায়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয় এবং এটি বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। প্রতিটি থানায় এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি গিয়ে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে এবং প্রতিকার পেতে পারে।

বিশ্ব বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গ্লোবাল ভিলেজের এই বিশ্ব ব্যবস্থা অপরাধের ধরনও পাল্টে দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ পুলিশকে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন, আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনীতে রূপান্তর করতে অপরাধ বিশ্লেষণ সক্ষমতা এবং বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতির বিস্তৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করতে চায়। গুম, অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা করা প্রতিটি পুলিশ সদস্যের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।