রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপল বাংলাদেশও

জাতীয় ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপল বাংলাদেশও

মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্প

মিয়ানমারে ৫ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে যার প্রভাবে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের এলাকা। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস বা জিএফজেড জানিয়েছে যে রোববার দিবাগত রাত ১টা ৩৬ মিনিটে এই কম্পনটি অনুভূত হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার নিচে যা ভূ-তাত্ত্বিকভাবে বেশ অগভীর ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হয়। 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এর তথ্য অনুযায়ী এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকা থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে। যদিও এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের জানমালের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি তবে মধ্যরাতে আকস্মিক এই কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় অনেকেই আতঙ্কে বিছানা ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

এই ভূমিকম্পটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গত কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে ভূ-কম্পনের ধারাবাহিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে গত শনিবার বিকেলেও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া এলাকায় ৪.৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের প্রভাবে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা কেঁপে ওঠে। বারবার এই ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়ায় জনমনে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদী উৎকণ্ঠা বাড়ছে এবং ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে আসছে। 

ভূ-তাত্ত্বিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে এই ধরনের ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পনগুলো ভবিষ্যতে কোনো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। তাই বিশেষ করে চট্টগ্রামের মতো পাহাড় ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে ভবন নির্মাণে বিশেষ সতর্কতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ জোনে অবস্থান করছে যার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে উৎপত্তিস্থল হওয়া সত্ত্বেও এর প্রভাব সরাসরি এই ভূখণ্ডে অনুভূত হচ্ছে। সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের পরিস্থিতিতে সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।