রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাঠ্যবইয়ে ফিরছে জিয়া ও খালেদা জিয়ার ইতিহাসের অধ্যায়

জাতীয় ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১০:১৬ এএম

পাঠ্যবইয়ে ফিরছে জিয়া ও খালেদা জিয়ার ইতিহাসের অধ্যায়

পাঠ্যবইয়ে নতুন ইতিহাস

আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। বিশেষ করে চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের ওপর পৃথক অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে। 

এর পাশাপাশি ৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব ঐতিহাসিক বিষয়গুলো পাঠ্যবই থেকে অনেকটা আড়ালে রাখা হয়েছিল তবে বর্তমান সরকার ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকগুলো পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের জন্য সম্প্রতি বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে একটি চার দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে দেশের আড়াই শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এই কর্মশালায় অংশ নিয়ে বর্তমান পাঠ্যবইয়ের ভুলত্রুটি ও ভাষাগত পরিমার্জনে নানা পরামর্শ দিয়েছেন। এবারের পরিমার্জন প্রক্রিয়ায় আমলাদের পরিবর্তে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যা পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বলছেন যে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণা এবং পরবর্তী সময়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনে তার ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে নির্মোহভাবে স্থান পাবে।

শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবোটিকসের মতো সমসাময়িক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে চতুর্থ শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দময় শিক্ষা নামের নতুন বই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে প্রতিটি শ্রেণিতে আলাদা বই দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে যেগুলোর মূল্যায়ন হবে মূলত ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে। 

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে জুনের মধ্যেই এই পরিমার্জনের প্রাথমিক কাজ শেষ করে চূড়ান্ত মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে যাতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো নতুন ইতিহাস ও তথ্য সমৃদ্ধ বই হাতে পায়। ইতিহাসের বয়ান যাতে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা প্রভাবিত না হয় সেদিকে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।