রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা নয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মে ১৯, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা নয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে মূলধারায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সরকার বিশেষায়িত বিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চায়। এক্ষেত্রে কেবল অবকাঠামো নয়, দরকার মমত্ববোধ, ধৈর্য ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল। 

এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা নন, বরং যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পেলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে সিলেট নগরীর অভিজাত কনভেনশন সেন্টারে হিউম্যান কেয়ার সংগঠন আয়োজিত ‘স্পেশাল অ্যাবিলিটি সামিট- ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করছেন উল্লেখ করে আবু জাফর মো. জাহিদ বলেন, ‘তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে। 

এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের পরিবার এই সমাজে একা নয়; সরকার, সমাজ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সবসময় তাদের পাশে রয়েছে।’তিনি বলেন, অনেক অভিভাবকের মনে উদ্বেগ থাকে ‘আমি যখন থাকব না, তখন আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে কে দেখবে?’ এ উদ্বেগ দূর করতে সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং সুসজ্জিত মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সরকার বিশেষায়িত বিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চায়। এক্ষেত্রে কেবল অবকাঠামো নয়, দরকার মমত্ববোধ, ধৈর্য ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল।তিনি তরুণদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে যারা এ খাতে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের মূলধারায় সম্পৃক্ত না করে একটি সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।

হিউম্যান কেয়ারের এ মহৎ উদ্যোগের বিষয়ে বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমে প্রয়োজন হলে সরকার কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত সহায়তা প্রদান করবে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সমাজসেবক ডা. রাগীব আলী, হিউম্যান কেয়ার সংগঠনের উপদেষ্টা শামা হক চৌধুরী, সায়মা সুলতানা চৌধুরী লিনাসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।