রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাধারণ মানুষের হৃদয়ে যেভাবে বেঁচে আছেন জিয়াউর রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৩০, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

সাধারণ মানুষের হৃদয়ে যেভাবে বেঁচে আছেন জিয়াউর রহমান

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও জীবন দর্শন স্মরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম নেতৃত্বদানকারী এই রাষ্ট্রনায়ককে সাধারণ মানুষ আজও গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আসনে স্মরণ করে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র গঠন পর্যন্ত তাঁর ভূমিকা ছিল সুদূরপ্রসারী।আজ এই মহান নেতার শাহাদাতবার্ষিকী।

১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বাঙালি জাতিকে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি সম্মুখ সারিতে থেকে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন এবং সমগ্র দেশকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৭১ সালের ১২ ও ১৩ জুলাই কলকাতায় অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে প্রবাসী সরকার ও সর্বাধিনায়কের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জিত হওয়া পর্যন্ত তাঁর এই রণকৌশল সক্রিয় ছিল।

স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে তিনি জাতিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখান এবং গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে খাল খনন কর্মসূচি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে দেশের রাজনীতির মূল উৎস হবে গ্রামীণ সাধারণ মানুষ এবং কৃষকের উন্নয়নই দেশের প্রকৃত অগ্রগতি নিশ্চিত করবে।

ব্যক্তিগত সততা, স্বচ্ছতা ও সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল অনন্য। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেঠো পথ ধরে হেঁটে কৃষকদের হাঁড়ির খবর নেওয়া এবং তাদের হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনে উদ্বুদ্ধ করার ঘটনাগুলো তাঁর জনমুখী রাজনীতির পরিচয় বহন করে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হওয়ার পর তৎকালীন ৮ কোটি মানুষের দেশে তাঁর জানাজায় অংশ নেওয়া বিশাল জনসমুদ্রই তাঁর জনপ্রিয়তার ঐতিহাসিক প্রমাণ দেয়।

বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে জোরালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তথা সার্ক প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর দূরদর্শী চিন্তার গভীর প্রভাব ছিল। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপনকারী এই নেতার জীবনদর্শন ও দেশপ্রেম সমকালীন রাজনীতিতে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।