জুন ১৯, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
লালমনিরহাটে পরিকল্পিত বাঁধ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষকে রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। নদীর ভাঙন ও বন্যা কবলিত মানুষের কষ্ট লাঘবে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে এই অঞ্চলে পরিদর্শনে এসেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।
আজ শুক্রবার দুপুরে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে অবসর রেস্ট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।পার্শ্ববর্তী দেশের পানি নীতির কারণে সৃষ্ট সংকটের কথা উল্লেখ করে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন যে উজানে গজলডোবায় গেটগুলো খুলে দেওয়ায় তিস্তায় তীব্র খাড়া স্রোত আসছে। এই অতিরিক্ত পানির উপচে পড়া স্রোতের কারণে নদীর পাড় অনবরত ভেঙে বিশাল আকার ধারণ করেছে এবং স্থানীয় জনসাধারণের স্বাভাবিক বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই কষ্ট লাঘবে সরকার দ্রুত নদী ড্রেজিং ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করবে। তিস্তাপাড়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং গোটা দেশের জন্যই অত্যন্ত জরুরি। কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলে উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে সারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করতে এই মহাপরিকল্পনা বড় ভূমিকা রাখবে।দীর্ঘমেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান করে সম্পন্ন করতে অন্তত ২ থেকে ৪ বছর কিংবা ৬ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সংক্রান্ত সেমিনার শেষ করে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো এই বৃহৎ তিস্তা প্রকল্পটিকেও অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে তোলা হবে। ঐতিহাসিক এই মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রীর সাথে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন