রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে সমন্বিত প্রতিরোধের আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

জুন ২১, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে সমন্বিত প্রতিরোধের আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর

তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে শুধুমাত্র ভয়ভীতি বা নিষেধাজ্ঞামূলক প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। রোববার ঢাকার আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাগিদ দেন। "তরুণদের মাদক প্রতিরোধে প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ" শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মাদক প্রতিরোধে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর আহ্বান সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।সেমিনারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দেশ থেকে মাদক সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সবাইকে মিলে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক কেবল প্রথাগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিচ্ছে। বর্তমান জাতীয় বাজেটে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সেবারের মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া  বা মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং আচরণ পরিবর্তনের বিজ্ঞানভিত্তিক মডেলের আলোকে কর্মক্ষেত্র ও বিদ্যালয়ভিত্তিক মাদক প্রতিরোধের গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। মাদকাসক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের শাস্তির পরিবর্তে পুনরুদ্ধারভিত্তিক পুনর্বাসন দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। একই সাথে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান কার্যক্রমের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষ অভিনন্দনের বা অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু প্রচলিত আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। অধিদপ্তর বর্তমানে বা মাঠপর্যায়ের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। এ ছাড়া বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এম এ মোহিত কামাল তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে প্রতিকূল শৈশব অভিজ্ঞতা চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্বের মডেলে আন্তর্জাতিক কর্মসূচির পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তরুণদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব বলে সেমিনারে বক্তারা একমত প্রকাশ করেন।