রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে সহায়তা দেবে চীন

জাতীয় ডেস্ক

জুন ২৬, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে সহায়তা দেবে চীন

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে চীন। একই সাথে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে চলমান কৌশলগত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করা এবং কূটনীতি ও জাতীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘২+২ সংলাপ’ চালুর যৌথ সম্ভাবনা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে ঘোষিত ১৫ দফা ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণাপত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন রূপরেখা হিসেবে এই ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি ২০২৬ সালের ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত এই রাষ্ট্রীয় সফর পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভাতেও অংশ নেন। 

সফরকালে চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীন ধারাবাহিকভাবে পারষ্পরিক রাজনৈতিক আস্থা সুদৃঢ় করেছে। চীন গত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় নতুন প্রশাসনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে এবং বর্তমান সরকারের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। 

দুই দেশ বিদ্যমান সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ উন্নীত করে ‘নতুন যুগে অভিন্ন বা ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার দৃঢ় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় এই মহতি উদ্যোগে বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অবিচল অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে, অন্যদিকে চীনও বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

উভয় দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআই-এর আওতায় উচ্চমানের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে মাঠে কাজ করবেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, সৌর প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানি খাতে পারষ্পরিক প্রযুক্তি বিনিময় ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশ পারস্পরিক সফর, বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যৌথ সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করবে। আগামী ২০২৫ সালে চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যম, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, যুব ও ক্রীড়া খাতে জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার বিশেষ স্কলারশিপ বা সুযোগ অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, জাতিসংঘকেন্দ্রিক বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূমিকার পাশে থাকবে বেইজিং এবং ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হওয়ার বাংলাদেশের আবেদনকে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ। চীনও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিকতার প্রশংসা করে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। চার দিনের এই সফল ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর ২৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।