জুলাই ১৫, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
জুলাই শহীদদের রক্ত কখনও বৃথা যেতে পারে না। ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বুধবার এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সারা দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন ২০২৪ সালের সেই দিনটিকে। তিনি বলেন, ওই দিন রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ছয়জন শহীদ হয়েছিলেন। গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার দৃশ্য আজও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল, যা স্বৈরাচার পতনের পথ প্রশস্ত করে।
১৬ জুলাইকে জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও প্রাণঘাতী শক্তির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শহীদ আবু সাঈদের সেই সাহসিকতা ছিল ভয় জয়ের প্রতীক।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন ছিল না, বরং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, গুম ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, শহীদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা সম্ভব। তিনি শহীদদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য প্রার্থনা করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন