জুলাই ২১, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন আইন ও আচরণবিধির সংশোধনী চূড়ান্ত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের গভীর নজর ছিল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে সংশোধনী এনে তা সরকারের কাছে সুপারিশ হিসেবে পাঠানোর প্রস্তাব এই বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণবিধির সংশোধনী অনুমোদনের প্রস্তাবটি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খসড়া সংশোধনীতে বেশ কিছু নতুন ও কঠোর বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর অপরাধ বা বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনী এজেন্টকে লিখিত আদেশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারের সময়সীমা কমানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ওপর সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং ঋণখেলাপির জামিনদারদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাবও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের এক শতাংশ স্বাক্ষর সংগ্রহের বিদ্যমান শর্ত বাতিলের সুপারিশও করা হয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধাপ শুরু হতে পারে। সে লক্ষ্যে আগস্টের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রাখা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন