বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আধুনিক ও পেশাদার সেনাসদস্য গড়তে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

আধুনিক ও পেশাদার সেনাসদস্য গড়তে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা

একটি পেশাদার, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, পেশাগত যোগ্যতা, সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্বকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত ‍‍`সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬‍‍`-এর উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সুসংগঠিত কাঠামো তৈরিতে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আত্মত্যাগকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেন। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি রক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের স্মৃতির প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানে সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আসল শক্তি কেবল সামরিক সক্ষমতায় নিহিত নয়, বরং তা সমগ্র জাতির ঐক্য, মানসিক প্রস্তুতি ও সহনশীলতার ওপর গড়ে ওঠে। সেই লক্ষ্য অর্জনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ধারণাকে ভিত্তি করে একটি যুগোপযোগী ও সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত এই সমন্বিত নিরাপত্তা নীতিমালার আওতায় সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প খাত, প্রযুক্তি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে একই কাঠামোর অধীনে আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই রূপরেখার মূল উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উসকে দেওয়া নয়, বরং সম্ভাব্য যেকোনো বাহ্যিক সংঘাত, আগ্রাসন কিংবা অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় একটি স্বাবলম্বী ও প্রস্তুত বাহিনী গড়ে তোলা। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

বর্তমান যুগের আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তনশীল রূপ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি এখন সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, উপগ্রহ মারফত নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্র ও উপগ্রহ ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়িয়ে সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সশস্ত্র বাহিনীর আকারের চেয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্ল্যাটফর্ম বাড়ানোর বদলে উদ্ভাবন এবং যৌথ কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সুশৃঙ্খল সশস্ত্র বাহিনী গঠন, যুগোপযোগী কৌশল গ্রহণ, দেশীয় প্রতিরক্ষা খাতের বিকাশ এবং সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে সকালে সেনাসদরে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান।

পর্ষদ উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জানান সেনাপ্রধান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোকচিত্রে অংশ নেন এবং পরিদর্শক বইয়ে নিজ মতামত স্বাক্ষর করেন।