সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে ও লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি বেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান তিনি। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি বলেন, দেশের মানুষের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকাজকে আরও লাভজনক ও উৎপাদনশীল পেশায় রূপান্তর করতে হবে।
কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের ওপর চাপ কমাতে দেশীয় সরিষার আবাদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন যেখানে ছিল আট দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন, তা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে পৌঁছায় এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া পেঁয়াজের সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং অপচয় রোধে কৃষক পর্যায়ে আধুনিক এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির প্রচলন এবং গ্রীষ্মকালীন নতুন জাতের চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সেই সাথে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। কৃষি গবেষণার অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে কর্মকর্তারা জানান, বিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষণায় এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের মোট এক হাজার ৯০টি উন্নত জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ধানের জাতই রয়েছে ১৫৫টি।
এর পাশাপাশি এক হাজারের বেশি আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে। উৎপাদন খরচ ও কায়িক শ্রম কমাতে দেশীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বৈঠকে জানানো হয়, কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সেচব্যবস্থাকে সাশ্রয়ী করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর উদ্যোগও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দেশে বর্তমানে দুই হাজার ৬১৭টি সৌরচালিত সেচব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ জ্বালানি তেলের ব্যবহার সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার প্রথম ধাপে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কৃষকের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি দেশব্যাপী খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং উৎপাদিত ফসলের সঠিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, যেসব পণ্য দেশীয় জমিতে চাষ করা সম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমদানির প্রবণতা পরিহার করতে হবে এবং প্রযুক্তি ও গবেষণার সর্বশেষ সুবিধা দ্রুত প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন