সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
ইসির ঘোষিত সময় পরিবর্তন হতে পারে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ট্র্যাটেজি ও তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল নির্ধারণে সরকারের সিদ্ধান্তই শেষ কথা এবং কমিশনের সাথে সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি চূড়ান্ত রূপ পাবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন। উপদেষ্টা জানান, দেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সরাসরি কেবল দুটি নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।
এর একটি হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই দুটি প্রধান নির্বাচনের বাইরে দেশে যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেগুলোর আয়োজনে সরকারের সঙ্গে সক্রিয় অংশীদারত্ব ও সমন্বয় করেই কমিশনকে মাঠে নামতে হয়। সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যই সরকারের মূল অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই। নির্বাচন কমিশন নিজেদের মতো করে একটি খসড়া সময় প্রকাশ করলেও নির্বাহী বিভাগ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকেই বস্তুনিষ্ঠ হিসেবে গ্রহণ করছে।
এই পরিস্থিতিকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো বিরোধ বা দূরত্ব হিসেবে দেখার অবকাশ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সংবিধান ও আইনের কাঠামো ব্যাখ্যা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া বা সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের একক ক্ষমতা থাকে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনের অধীন। আইন সংশোধন করে সরকার চাইলে এই নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের বাইরে রেখে অন্য উপায়েও সম্পন্ন করার এখতিয়ার রাখে, কারণ সংবিধানে স্থানীয় নির্বাচনের কর্তৃত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশনের হাতে ন্যস্ত করা হয়নি।
তবে দেশে নির্বাচন যথা সময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত প্রাথমিক সময়সূচিটি সরকারের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির ভিত্তিতে তারিখ কিছুটা পেছাতে বা এগিয়ে আসতে পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে—এমন ধারণাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে উপদেষ্টা জানান, কোনো সংঘাত নয় বরং সমঝোতার মধ্য দিয়েই ভোটের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ পাবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন