বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬

প্রযুক্তিগত প্রবৃদ্ধিতে জোর দিলেন উপদেষ্টা তিতুমীর

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

প্রযুক্তিগত প্রবৃদ্ধিতে জোর দিলেন উপদেষ্টা তিতুমীর

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তিগত প্রবৃদ্ধিতে জোর দিয়ে এবং বহুমুখী রপ্তানি কাঠামো গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের নীতিপ্রণেতারা। সোমবার ঢাকার বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‍‍`বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬‍‍`-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

ড. তিতুমীর তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, দ্রুত পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পুনর্প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই পুনর্গঠনের মাধ্যমেই কেবল স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ২০২৯ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক পণ্যের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে বহু পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ধারাবাহিক রূপান্তর জরুরি। 

এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তবাজার শিল্পনীতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের কথা স্মরণ করে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিলে অনুদান দিলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর ছাড়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, দেশে মানসম্মত গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করতে একটি স্বচ্ছ ‍‍`রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ফান্ড‍‍` গঠনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে সরকার। এতে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশীদার হলে তাদের প্রয়োজনীয় রাজস্ব প্রণোদনা দেওয়া হবে। 

তিনি ‍‍`সবার আগে বাংলাদেশ‍‍` দার্শনিক ভিত্তিকে সামনে রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং তরুণদের হাত ধরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, তরুণদের মেধা বিকাশে এখন থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে ইনোভেশন ফেয়ার আয়োজন করা হবে। এবারের মেলায় অংশ নেওয়া উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে গৃহীত হয়েছে এবং ওমানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিন দিনে ২০টি অ্যাকাডেমিক, মিডিয়া ও পলিসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০টির বেশি স্টল নিয়ে আয়োজিত এই মেলায় ৬৭১টি আবেদন থেকে বাছাই করে সেরা ৫০টি দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

মেলার সমাপনী দিনে সেরা ৫০টি উদ্ভাবনের মধ্য থেকে শীর্ষ ১০ উদ্ভাবককে পুরস্কৃত করা হয়। নির্বাচিত দলগুলো হলো হোমপিটাল নেক্সাস, স্মার্ট হুইলচেয়ার, ফায়ারফ্লাই, ভয়েস অ্যাসিস্ট ডিভাইস, বিডি সাইবার হেল্পলাইন, ওয়াটার রিপেলেন্ট জুট ফেব্রিক, ন্যাচারাল ফাইবার পিসিবি (প্রাকৃতিক আঁশযুক্ত পিসিবি), অ্যানটেনা ফর ন্যানোস্যাট, লিকুইড ট্রি এবং সেলফ কন্টাক্টর। এই শীর্ষ দশ উদ্ভাবকের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

মেলায় সক্রিয় ও সফল উপস্থাপনার স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গাজী এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিইউবিটি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এআইইউবি। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক, শিল্প উদ্যোক্তা ও তরুণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।