শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

নতুন পে স্কেলে চাকরিজীবীরা পাবেন যে ১০ সুবিধা

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

নতুন পে স্কেলে চাকরিজীবীরা পাবেন যে ১০ সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের রূপান্তর এনেছে সরকার। মন্ত্রিসভায় সম্প্রতি অনুমোদিত এই বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে এবং একই সাথে ঝুঁকি ভাতা বাড়িয়ে নববর্ষের ভাতার আকারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়নে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত তিন ধাপে মূল বেতন ও পেনশন কার্যকর করা হবে। তবে সংশোধিত অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে। 

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে মূল বেতন ও নিট পেনশন বাবদ মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা বিদ্যমান বাজেটের চেয়ে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা বেশি। পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকায়। বর্তমানে অর্থ বিভাগ বিধিমালা তৈরির কাজ করছে এবং শিগগিরই এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। নতুন কাঠামোয় কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ১০টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বড় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রথমত, আবাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে বাড়িভাড়া ভাতায় বড় পরিবর্তন এনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশনে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মূল বেতনের ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বয়স বাড়ার সাথে সাথে চিকিৎসার খরচ বিবেচনায় নিয়ে চার ধাপে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত তিন হাজার টাকা, ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের চার হাজার টাকা, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের পাঁচ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে ছয় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে। 

তৃতীয়ত, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডে বেশি জোর দিয়ে গ্রেড-৬ ও এর নিচের কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ, গ্রেড-৩ ও ৪-এর জন্য সাড়ে ৩ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এর জন্য পৌনে ৩ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি রাখা হয়েছে। দাপ্তরিক ডিজিটাল কাজের পরিধি বাড়ায় এবার সর্বস্তরের কর্মচারীদের জন্য প্রথমবারের মতো মাসিক মোবাইল ভাতা চালু করা হয়েছে। পঞ্চম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ গ্রেড থেকে নিচের কর্মচারীরা পাবেন ১৫০ টাকা। যাতায়াত ভাতা দ্বিগুণ করে ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। 

এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য কর্মচারীরা সন্তানপ্রতি তিন হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ দুজন সন্তানের জন্য নতুন ভাতা পাবেন। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রেষণ ভাতা মূল বেতনের ১০ শতাংশ এবং ঝুঁকি ভাতা ক্ষেত্রবিশেষে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে, তবে শিক্ষা সহায়ক ও উৎসব ভাতা আগের হারেই অপরিবর্তিত থাকবে। ভৌগোলিক বিবেচনায় পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে জেলা সদরে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পাহাড়ি উপজেলায় সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এছাড়া হাওড়, দ্বীপ ও চরাঞ্চলে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা নির্ধারিত হয়েছে। পেনশন ব্যবস্থায় ‍‍`এক গ্রেড এক পেনশন‍‍` কাঠামোর সূচনা হিসেবে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্ষেত্রে কিট, ডেঞ্জার মানি ও দোভাষী ভাতাসহ বেশিরভাগ সামরিক ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের চেয়ে ১০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

সামগ্রিক এই সংস্কারকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার। তিনি জানান, বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ বাস্তবসম্মত।