সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে আসামিদের আদালতে হাজির করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. শামসুজ্জোহা সরকার জানান, তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে অবস্থিত ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্যের ১৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পরপরই রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে রাতেই সংসদ সদস্য, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন সংসদ সদস্যকে আটকের বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের আরজি জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে নিহতের বাবার অভিযোগ, গত জুন মাসে তার শ্যালকের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার ১৯ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে যৌথভাবে বসবাস করছিলেন। এজাহারে আরও দাবি করা হয়, বৈবাহিক জীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে ওই তরুণীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে তিনি পরিবারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন।
রোববার বিকেলে সাড়ে পাঁচটার দিকে সংসদ সদস্য মোবাইল ফোনে নিহতের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসার নির্দেশ দেন। সেখানে পৌঁছে তিনি নিজের মেয়েকে সিলিংয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে বিছানার ওপর বেশ কয়েকটি হাতে লেখা চিরকুট বা সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। একটি চিরকুটে লেখা ছিল, শুধু মায়ায় পড়ে বারবার নত হলেও নিজেকে যতটা সস্তা ভাবা হচ্ছে ততটা তিনি নন। অন্য একটি চিরকুটে প্রতারণার কথা উল্লেখ করে লেখা হয়, অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে তাকেই দেখা গেছে। সেখানে আরও উল্লেখ ছিল, হেরে গেলেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মুখে হাসি রাখা হয়েছে, যা একসময় অপর পক্ষের পতনের কারণ হবে।
অন্য চিরকুটগুলোতে অন্য নারীর স্বামীর প্রতি নিজের মোহের আক্ষেপ ও বেদনা প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ ছিল, কাগজে-কলমে অধিকার অন্য স্ত্রীর থাকলেও ভুলবশত অন্য কারও স্বামীকে নিজের ভাবা হয়েছিল। একই সাথে কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলা অনেক বেশি সম্মানের, কারণ ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয় বলেও চিরকুটে লেখা ছিল। এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে সংশ্লিষ্টদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন সংসদ সদস্য। তবে সাংগঠনিক তদন্তের ভিত্তিতে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে গত ২২ জুলাই দল থেকে তাকে বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরবর্তীতে তৎকালীন বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশন বরাবর চিঠি দেওয়া হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন