সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
জ্বালানি মূল্যের ব্যাখ্যা

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ ভর্তুকির বিশাল আর্থিক চাপ সামলাতেই বাধ্য হয়ে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে যে আর্থিক কষ্ট হচ্ছে, সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ পরবর্তী এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই ব্যাখ্যার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো না হলে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় অসচ্ছল মানুষের জন্য রাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন সহায়তা কার্ড এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে গরিব রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেত।

দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই অত্যাবশ্যকীয় সরকারি সেবাগুলো কোনোভাবেই যেন বন্ধ না হয়, তা সচল রাখতেই সরকার এমন কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। সরকারের এই বাস্তব সীমাবদ্ধতা ও নিরুপায় পরিস্থিতি দেশের সাধারণ মানুষ ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। 

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন পরিবহন ভাড়া বা নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও আশাবাদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান বৈশ্বিক সংকট খুব দ্রুত কেটে যাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দর নিম্নমুখী হলে দেশে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে, অথবা প্রয়োজনে তার চেয়েও কমিয়ে নির্ধারণ করা হবে।