শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা

স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়তে প্রযুক্তির প্রয়োগ করছি: চসিক মেয়র

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়তে প্রযুক্তির প্রয়োগ করছি: চসিক মেয়র

চট্টগ্রামকে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, অটোমেশন এবং ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শুক্রবার প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন আইকনেক্ট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি একই সঙ্গে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।প্রযুক্তি এখন শুধু মুঠোফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

একটি আধুনিক শহরের সার্বিক কার্যক্রমে প্রযুক্তি সরাসরি সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানবাহনের চাপ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল পরিচালনা করা হবে এবং একই পদ্ধতিতে অবৈধ পার্কিং ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার মতো বিষয়গুলো নজরদারিতে আনা হবে।

নাগরিক সেবা সহজ করতে সিটি কর্পোরেশন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। আমাদের চট্টগ্রাম মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নগরবাসী ভাঙাচোরা সড়ক, জলাবদ্ধতা, মশা, বর্জ্য, সড়কবাতি ও পয়োনিষ্কাশনের সমস্যা জানাতে পারছেন এবং জমা দেওয়া অভিযোগের অগ্রগতি সরাসরি দেখতে পারছেন। এছাড়া প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত এলইডি সড়কবাতি, ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড, সিসি ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কের মাথার ওপর থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ও বিশৃঙ্খল তার সরিয়ে মাটির নিচে পরিকল্পিত অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে।

জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করতে আধুনিক সেন্সর ও ডেটাভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মেয়র জানান, বিদেশি প্রযুক্তি অন্ধভাবে আমদানির বদলে দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ প্রকৌশলীদের কাজে লাগানো জরুরি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি কর্পোরেশন, শিল্পখাত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিসহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ডিগ্রি না দিয়ে যানজট, বায়ুদূষণ, বর্জ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো নাগরিক সংকটের সমাধান খোঁজার তাগিদ দেন। একই সাথে তরুণ শিক্ষার্থীদের রোবোটিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডেটা সায়েন্স নিয়ে গবেষণার পরামর্শ দেন।

সম্মেলনের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির জানান, এই আয়োজনের লক্ষ্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মেলনের সাধারণ সভাপতি অধ্যাপক ড. শহীদ মো. আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ ফাত্তাহ ও অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ মো. রবিউল ইসলাম, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফিয়া আক্তার এবং আয়োজক সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক টোটন চন্দ্র মল্লিক। দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের গবেষক ও প্রযুক্তিবিদরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশ নিয়েছেন।