অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যপুস্তকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সুপ্ত মেধা ও নেতৃত্বগুণের বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ৫৩তম আঞ্চলিক গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে খেলাধুলার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত থাকতে হবে। যেকোনো প্রতিযোগিতায় জয় ও পরাজয় দুটিই স্বাভাবিক বাস্তবতা। পরাজয়কে ইতিবাচক মানসিকতায় সহজভাবে গ্রহণ করে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে সফল হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত অর্থে পড়াশোনা ও খেলাধুলা একে অপরের পরিপূরক এবং একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই ক্রীড়াচর্চার পাশাপাশি কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
২০২৭ সালের জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে এহসানুল হক মিলন জানান, চতুর্থ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আনন্দময় পরিবেশ ও কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য কাণ্ডারি হিসেবে গড়ে তোলাই এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় তোমাদের পাশে রয়েছেন। খেলাধুলার পাশাপাশি ভালোভাবে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে, যাতে আগামী দিনের সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যায়।
দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে বোঝা না বানিয়ে আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের ওপর বিশেষ জোর দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বাস্তবমুখী শিক্ষাদানের মাধ্যমে সুশিক্ষিত কর্মদক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া নৈপুণ্য এবং অন্তর্নিহিত প্রতিভার বিকাশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যপাত্র মাহদী আমিন এবং জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
মাদ্রাসার মহাপরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আকাস আলী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক প্রফেসর মো. শাহাওয়াত হোসেন খান। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও আয়োজনে অংশ নেন।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ শেষে শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন ৫৩তম আঞ্চলিক গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন