অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই বার্তায় ভারতীয় রাজনীতিতে চলমান চাপকে ইঙ্গিত করে আসিফ নজরুল লেখেন, চলমান রাজনৈতিক ধাক্কায় নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন এবং তার পক্ষে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় নেতৃত্বের পরিবর্তন এলে বেশ কিছু দৃশ্যমান রূপান্তর ঘটতে পারে।
তার মতে, দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বে বদল এলে ভারতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া মুসলিমবিদ্বেষী তৎপরতা কিছুটা হলেও বাধার মুখে পড়বে।
আন্তর্জাতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই অধ্যাপক মন্তব্য করেন, ভারতীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে বৈশ্বিক কূটনীতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্রের সংখ্যাও সংকুচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর ভারতীয় রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাবের প্রসঙ্গও টেনে আনেন সাবেক এই আইন উপদেষ্টা। তিনি লেখেন, বর্তমান ভারতীয় নেতৃত্বের নীতির কারণে বাংলাদেশের বহু মানুষ ও পরিবার অতীতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলে তারা কিছুটা হলেও মানসিক স্বস্তি পাবে। নিজের বার্তার সমাপ্তি টেনে তিনি উল্লেখ করেন, আরও অনেকের মতো তিনিও দিল্লির রাজনৈতিক পটপরিবর্তন প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই এই পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্যে এলো। তবে ভারতে চলমান এই আন্দোলনের সাথে তার ব্যক্ত করা মতামতের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন