অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের ৪২ ধরনের ভাতা ও আর্থিক সুবিধাকে আয়করের আওতামুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি ২০২৬-২৭ করবর্ষের হালনাগাদ আয়কর নির্দেশিকা অনুসারে, নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে এসব সুবিধা গ্রহণকারী সরকারি কর্মচারীদের কোনো কর পরিশোধ করতে হবে না।
তবে সব আয় কিন্তু করের আওতার বাইরে থাকছে না। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন, উৎসব ভাতা এবং যেকোনো ধরনের বোনাস করযোগ্য আয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এগুলোর ওপর প্রচলিত হারে নিয়মিত কর দিতে হবে।
মূল বেতনের পাশাপাশি চাকরির ধরন, কর্মস্থল ও অর্পিত দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে সরকারি কর্মচারীরা বিভিন্ন প্রকার ভাতা পেয়ে থাকেন। কর্মক্ষেত্রের ভিন্নতার কারণে সব কর্মচারী সব ধরনের ভাতা পান না, তবে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রাপ্ত ভাতাসমূহের সিংহভাগই করমুক্ত সুবিধার আওতাভুক্ত থাকবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশিকা অনুসারে করমুক্ত ৪২ ধরনের সুবিধা হলো: বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, যাতায়াত ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, টিফিন ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, পোশাক ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ধোলাই ভাতা, বিশেষ ভাতা, প্রেষণ ভাতা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা।
নিরাপত্তা ও বিশেষায়িত দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীদের ভাতার ক্ষেত্রেও এই সুবিধা প্রযোজ্য।
তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, গৃহস্থালি সহায়তা ভাতা বা ডোমেস্টিক এইড অ্যালাউয়েন্স, ঝুঁকি ভাতা, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বের ভাতা বা অ্যাক্টিং অ্যালাউন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, অস্ত্রাগার ভাতা বা আর্মরার অ্যালাউন্স, নিঃশর্ত যাতায়াত ভাতা, টেলিযোগাযোগ ভাতা বা টেলিকম অ্যালাউন্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ভাতা বা ক্লিনার অ্যালাউন্স, চালক ভাতা বা ড্রাইভার অ্যালাউন্স, মাউন্টেড পুলিশ ভাতা, পিবিএক্স ভাতা, সশস্ত্র শাখা ভাতা, বিউগলার ভাতা, নার্সিং ভাতা, দৈনিক বা খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক ভাতা, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, নির্দেশক ভাতা বা ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউন্স, নিযুক্তি ভাতা, সাজপোশাক ভাতা বা আউটফিট ভাতা, গার্ড পুলিশ ভাতা এবং রেশন মানি।
তবে এই করমুক্ত সুবিধাগুলো কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রযোজ্য আর্থিক বিধি ও আনুষ্ঠানিক শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করযোগ্য ও করমুক্ত খাতের বিভাজন সতর্কতার সাথে নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মচারী করমুক্ত ভাতা ভোগ করলেও তার রিটার্নে আয়ের সামগ্রিক বিবরণ স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে।
এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো এবং বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর অর্থ কোন নির্দিষ্ট মাসের বেতনের সাথে সমন্বয় করা হবে এবং বকেয়ার হিসাব কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন ও আনুষ্ঠানিক নীতিমালার ভিত্তিতে কার্যকর হবে।
আয়কর নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি করবর্ষের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ আয় ও করের নির্ভুল তথ্য দাখিল করতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন