অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। উড়োজাহাজটির নোজ ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি দেখা দিলে এই বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৯ মিনিটে ৭৮ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রুসহ মোট ৮২ জন আরোহী নিয়ে ফ্লাইট বিজি-৪৩৬ নিরাপদে রানওয়ে স্পর্শ করে। অবতরণের সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচকের চেয়ারম্যানসহ বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি তদারকি করেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজটি দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। সূচি অনুযায়ী উড়োজাহাজটির অবতরণের নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। কিন্তু উড্ডয়নরত অবস্থায় উড়োজাহাজের ২ নম্বর হাইড্রোলিক সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে সামনের নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিক নিয়মে নামানোর ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে এরিয়া কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি অবস্থার বার্তা পাঠান উড়োজাহাজের প্রধান পাইলট।
ওই সময় উড়োজাহাজটি আকাশসীমায় আনুমানিক ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছিল। এরিয়া কন্ট্রোল তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারকে জরুরি বার্তাটি অবহিত করে।
সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঢাকা টাওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করে। রানওয়ে সংলগ্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষ উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত রাখা হয়। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির স্পর্শ নিশ্চিত করতে গ্রাউন্ড মার্শালিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের মধ্যে সার্বক্ষণিক সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, পাইলটের অত্যন্ত দক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বিকল্প পদ্ধতিতে নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার সফলভাবে নামানো সম্ভব হয়। পরে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা বিলম্বে বিকেল ৩টা ৯ মিনিটে উড়োজাহাজটি রানওয়েতে নিরাপদ স্পর্শ সম্পন্ন করে। অবতরণের পরপরই যাত্রী ও ক্রুদের কোনো ধরনের আঘাত বা ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সুরক্ষিতভাবে টার্মিনালে স্থানান্তর করা হয়।
পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বেবিচক চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বেবিচকের পরিচালনা ও পরিকল্পনা বিভাগের সদস্য এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রণকক্ষে উপস্থিত থেকে উদ্ধার প্রস্তুতি প্রত্যক্ষ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন