তানভীর হাসান তানু
অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ছবি: দিনাজপুর টিভি
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনী প্রচারণা পুরোদমে শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া এই শূন্য আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন পাঁচটি রাজনৈতিক দলের পাঁচজন প্রার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীরা পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে নেমে পড়েন মাঠে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি এখন নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর।
ভোটারদের মন জয়ে প্রার্থীরা এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জেলা সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বেকারত্ব দূরীকরণ, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সর্বসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি, সাম্য ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভোটারদের ভোট প্রার্থনা করছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন জানান, সৎ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচিত হলেই এলাকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। তার মতে, নাগরিক উন্নয়ন শুধু সরকার বা বিরোধী দলের পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি জনপ্রতিনিধির সততা ও জবাবদিহিতার ওপর নির্ভর করে। তিনি একটি নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, সেজন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনসহ সার্বিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে।
একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।