অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচারের বয়ামে লুকিয়ে আনা ডায়মন্ড ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্লাটিনাম, রুবি এবং অন্যান্য মূল্যবান পাথর জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। উদ্ধার করা এসব অলঙ্কার ও মূল্যবান পাথরের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা। ভারত থেকে আসা এক যাত্রীর ব্যাগ স্ক্যান করে এসব মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় ওই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে বলে রোববার (১১ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ।
ঢাকা কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কলকাতা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৯৬ ফ্লাইটে সোনা চোরাচালানের গোপন তথ্য পাওয়া যায়। তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম এবং সি-শিফটের কর্মকর্তারা বিশেষ নজরদারি শুরু করেন। এ সময় এমডি জনি রহমান নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশন শেষ করে কোনো ধরনের ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়েই গ্রিন চ্যানেল পার হচ্ছিলেন।
সন্দেহ হলে তাঁর ব্যাগ স্ক্যানিং মেশিনে দেওয়া হয় এবং আচারের বয়ামের ভেতর ধাতব বস্তুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। পরে বিস্তারিত তল্লাশি ও ইনভেন্ট্রি সম্পন্ন করে বিপুল পরিমাণ অলঙ্কার ও মূল্যবান পাথর পাওয়া যায়।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে হীরা বসানো ১৮ ক্যারেটের ৩৮৯টি সোনার আংটি, যার মোট ওজন ৪৭৮ গ্রাম। এছাড়া ৯৫০ মানের ১৫১টি প্লাটিনামের আংটি উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৪৫০ গ্রাম।
একই সঙ্গে হীরা সংযুক্ত তিনটি সাদা সোনার অলঙ্কার, দুটি রুপার আংটি, পাঁচটি সোনার লকেট, একটি সোনার চেইন এবং ৪৭২টি সোনার নাকফুল পাওয়া গেছে। এসব অলঙ্কারের সঙ্গে ৪৫ ক্যারেট ওজনের বিভিন্ন আকারের হীরা, পোখরাজ, রুবি ও অন্যান্য ৭২০টি মূল্যবান পাথর এবং ২৩টি জুয়েলারি সনদপত্র কার্ড জব্দ করা হয়।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া পণ্যের মোট ওজন এক হাজার ৫৪ গ্রাম।
ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে অবৈধভাবে মূল্যবান সামগ্রী দেশে নিয়ে আসার অভিযোগে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ দল সংশ্লিষ্ট থানায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন