অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য খাতে সরাসরি বিনিয়োগের পরিসর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো।
বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
বৈঠককালে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের ধারাবাহিক তৎপরতায় উভয় দেশের মৈত্রীপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত ভূমিকার জন্য তারো আসোর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২০০৬ সালে নিজের জাপান সফরকালে তারো আসোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী বৈঠকের স্মৃতি স্মরণ করেন তিনি। জবাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের অতীতের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের মুহূর্তগুলোও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশই তরুণ এবং কর্মক্ষম। সেখানে বর্তমানে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এই পরিবর্তিত ও ইতিবাচক পরিস্থিতিতে জাপানের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ধারাবাহিকভাবে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও সংহত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ বিস্তারিত ঐকমত্য প্রকাশ করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে তার প্রশাসন একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এই লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে সরকারের গৃহীত নতুন পরিকল্পনাগুলোও তিনি আলোচনায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে সরাসরি জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরে তারো আসোর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কার্যক্রমে জাপানের অব্যাহত সহায়তা কামনা করা হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন জাপানের সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি এবং জাপানি পার্লামেন্টের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন