অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ যাবতীয় কারিগরি পরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলোর বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেলেই প্রথম ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ `স্টেজ-সি` বা `পাওয়ার স্টার্টআপে` প্রবেশ করবে।
প্রকল্পের প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, `স্টেজ-সি` ধাপে পৌঁছানোর পর চুল্লির ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে কেন্দ্রের সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থার সার্বিক সক্ষমতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সঞ্চালনের সক্ষমতা পুরোপুরি যাচাই করা।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, পরবর্তী স্টেজ-সি পর্যায়ে চুল্লির পাশাপাশি প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক অবকাঠামো, স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সার্বিক সুরক্ষা কাঠামোর কার্যকারিতা সমন্বিতভাবে পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে এসব পৃথক ব্যবস্থার মধ্যে পারস্পরিক নিখুঁত কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, চুল্লির সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধির মাধ্যমে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা, মূল বিদ্যুৎ জেনারেটর এবং সহায়ক বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিস্থিতিতে যথাযথভাবে সাড়া দিচ্ছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা হবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তথ্যমতে, স্টেজ-সি পর্যায়ের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হলো রূপপুরের জেনারেটরকে সরাসরি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সঞ্চালনের বাস্তব সক্ষমতা প্রমাণিত হবে।
সব কারিগরি পরীক্ষা সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়া, নির্ধারিত কমিশনিং শর্ত পূরণ এবং বায়েরার প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন সাপেক্ষে প্রথম ইউনিটটিকে পরীক্ষামূলক পরিচালনা বা `পাইলট অপারেশন` পর্যায়ে রূপান্তর করার পথ উন্মুক্ত হবে।
তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা স্পষ্ট করেছেন যে স্টেজ-সি পর্যায়ে প্রবেশ, গ্রিডে সফলভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু এবং পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদন—এই তিনটি সম্পূর্ণ পৃথক কারিগরি ধাপ। চূড়ান্ত বাণিজ্যিক উৎপাদনে পদার্পণ করার আগে আরও বহুস্তরের জটিল পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর শর্তাবলি ধারাবাহিকভাবে পূরণ করতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন