সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০১:২১ পিএম
রাজধানীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নতুন স্টুডিওতে হামলার ঘটনাটি কোনো চাঁদাবাজির কারণে ঘটেনি, বরং জমির মালিকানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাটির সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও কারণ সঠিকভাবে জেনে তারপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করা উচিত ছিল সালমান মুক্তাদিরের। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করেন যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার সাথে বিএনপি কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই।
জমি দখলের পুরোনো বিরোধ থেকেই এই অনভিপ্রেত সংঘাতের সূচনা ঘটে। রাশেদ খাঁন জানান, রাজধানীর নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সংলগ্ন এলাকায় সাবেক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার মালিকানাধীন মোট ২৩ কাঠা জমি রয়েছে। এই সম্পত্তির ভেতরে ৮ কাঠা জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে অনৈতিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই ৮ কাঠা জমি জোরপূর্বক দখল করেছিলেন নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীন, যিনি বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ইতিপূর্বে কারাভোগ করেছেন।
পরবর্তীতে ওই বিতর্কিত স্থাপনার মধ্যেই নিজের নতুন কাজের পরিধি গড়ে তুলেছিলেন সালমান মুক্তাদির। অতিসম্প্রতি সেই নাজিম উদ্দীনের কাছ থেকে প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের জায়গা ভাড়া নিয়ে আধুনিক স্টুডিওর কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তিনি। তবে জায়গাটি ভাড়া দেওয়ার পরপরই নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীন সীমানায় নতুন করে তিনটি বিশালাকার ফটক নির্মাণ করেন, যাতে ভেতরে অবস্থিত অন্য বৈধ জমির মালিকেরা কোনোভাবেই প্রবেশ করতে না পারেন। জমি পুরোপুরি গ্রাস করার অসৎ উদ্দেশ্যেই এই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রবেশপথের ফটক ভাঙতে আসা ভাড়াটে লোকজনের আঘাতেই স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতি হয়। রাশেদ খাঁনের ভাষ্যমতে, চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সাবেক কর্মকর্তারা বহিরাগত লোকজন ভাড়া করে সেই অবৈধ ফটকগুলো ভাঙতে পাঠান। সীমানাপ্রাচীর ও ফটক ভাঙচুর করার একপর্যায়ে আক্রমণকারীরা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটিকেও নাজিম উদ্দীনের ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে ভুলবশত সেখানে ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনাকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাদের আইন ও আদালতের শরণাপন্ন হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আইনি পথে না গিয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে পেশিশক্তি ব্যবহার করার ফলেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জন্য বিএনপির ওপর পুরো দায় চাপানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে যারা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখলসহ নানা সম্পদ নিজেদের দাবি করে জোরপূর্বক কবজা করার চেষ্টা করেছিল, তারাই আজ প্রতিটি অপরাধমূলক ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে দোষারোপ করে খলনায়ক বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সব পক্ষের সঙ্গে কথা না বলে এবং প্রকৃত ঘটনা না জেনে বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁদা দাবি করে স্টুডিও গুঁড়িয়ে দিয়েছে মর্মে সালমান মুক্তাদিরের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধা হিসেবে সালমান মুক্তাদিরের প্রতি পূর্ণ সহমর্মিতা জানিয়ে রাশেদ খাঁন আশা প্রকাশ করেন যে তিনি এবার জনসমক্ষে সত্য পরিস্থিতি তুলে ধরবেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ এই নির্মাতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন