অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ০৩:৫৭ পিএম
দেশের উন্নয়নের প্রচলিত দর্শন বদলানোর সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নদীভাঙন কবলিত এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার প্রান্তিক ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ‘অ্যানুয়াল কমিউনিটি অব প্রাক্টিসেস (কপ) নেটওয়ার্ক কনভেনশন ২০২৫–এমপাওয়ার : উইমেন ফর ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট সোসাইটিস (ফেজ টু)’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জলবায়ু সহনশীল একটি বাংলাদেশ গড়তে নারীর ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন হয়তো আমাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে টিকে থাকার লড়াইটা আমাদের নিজেদের হাতেই। আর সেই লড়াইয়ে পরিবারে নারীরাই মূল অনুপ্রেরণা জোগান। নারীর অদম্য সাহস আর প্রচেষ্টাতেই গড়ে উঠবে একটি জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা প্রতিদিন ঘরে ও বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করে সহনশীলতার এক অসামান্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ, দারিদ্র্য আর চরম অনিশ্চয়তার মাঝেও তারা কখনো হার মানেননি। নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
টেকসই উন্নয়নের ধারণা ব্যাখ্যা করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নের দর্শন বদলাতে হবে। বড় বড় মেগা প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নদীভাঙন ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষদের সুরক্ষায় বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রকৃত অর্থে টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন দেশের সবচেয়ে প্রান্তিক ও দুর্বল জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ অভিঘাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’
সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে চলমান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পগুলোকে করে সেগুলোকে আরও বড় আকারে সম্প্রসারণ করার ওপর জোর দেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের নেওয়া উদ্ভাবনী এবং কার্যকর প্রচেষ্টাগুলোকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার সময় এসেছে।’
অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন জেলায় প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা ১০ জন অদম্য নারীকে তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পরে পরিবেশ উপদেষ্টা জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ক বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এই কনভেনশনে দেশের ১০০টি নারী নেতৃত্বাধীন নাগরিক সংগঠন অংশ নেয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাদের পরিচালিত বিভিন্ন জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগ প্রদর্শন করে। এছাড়া, শিল্পীরা পটের গানের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতা প্রধান ডিপাক এলমার, জাতিসংঘ নারী সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং এবং আয়োজক সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম বক্তব্য রাখেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন