নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৪:০৪ পিএম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন যে, পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধুই ইকোলজিক্যাল বা পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ বিবেচনা করা যথেষ্ট নয়; বরং মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা, তাদের পরিচয় এবং তাদের শ্রমের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিকেও সেই মূল্যায়নের আওতায় আনতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জলজ জীববৈচিত্র্যে বাংলাদেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ, তাই প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি।
আজ শনিবার (০১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর সিক্স সিজনস হোটেলে অনুষ্ঠিত ৭ম সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সম্মেলন ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এই সম্মেলনটি সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি) ও ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) যৌথভাবে আয়োজন করেছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রাণীজ প্রোটিনের একটি বড় অংশ আসে মাছ, ডিম এবং অন্যান্য প্রাণীজাত পণ্য থেকে। এই পণ্যগুলো মূলত ক্ষুদ্র খামারিরাই উৎপাদন করছেন এবং তাদের বেশিরভাগই হলেন নারী। কিন্তু দেশের অর্থনীতি ও পুষ্টিতে তাদের এই বিশাল অবদান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো যথাযথ গুরুত্ব বা স্বীকৃতি পাচ্ছে না।উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক জলসীমা রয়েছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্যে আমরা অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
তা সত্ত্বেও আমাদের এই বিশাল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ এখনো যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়নকে মাছের প্রাকৃতিক বিচরণের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সড়ক নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত কালভার্ট না রাখায় বহু স্থানে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা মাছের বিচরণক্ষেত্র ও প্রাকৃতিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক ও সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হলেও দূষণ, বিশেষ করে প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্যের দূষণের কারণে মাছের জীবন ও সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা ক্রমেই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি জানান, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া (সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল) ঘোষণার মাধ্যমে মাছ সংরক্ষণের উদ্যোগও চলমান আছে। তবে এসব মহৎ উদ্যোগকে অবশ্যই অধিকতর সমন্বিত ও সুসংগঠিতভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন ইউল্যাব-এর ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমরান রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেটো রেঙ্গলি এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ইউল্যাব-এর বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সদস্য সাইদা মাদিহা মুরশেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শারমিন্দ নীলোরমী। সেমিনারে বিভিন্ন নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন