ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৭:০৬ পিএম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারেক রহমান দেশে ফেরায় আগামী নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে শঙ্কা ছিল তা এখন দূর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে দেশে যখন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পরও নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সংশয় ছিল ঠিক এমন এক সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের ফেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি মনে করেন এই পদক্ষেপে নির্বাচনী পরিবেশ আরও সুসংহত হবে। অন্যদিকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব মনে করেন যে তারেক রহমান এতদিন প্রবাসে থেকে দলের নেতৃত্ব দিলেও এখন জাতীয় রাজনীতিতে তিনি সরাসরি কী ভূমিকা রাখেন সেটিই দেখার বিষয় এবং পুরো দেশের নজর এখন সেদিকেই থাকবে।বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট সড়কের সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছাতে তাঁর সময় লাগে ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। পুরোটা পথ তিনি সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন।
মঞ্চে উঠে তিনি লাখো জনতার উদ্দেশে তাঁর স্বপ্নের কথা জানান। বিখ্যাত নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন যে মানুষের জন্য তাঁর কাছে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা প্ল্যান রয়েছে যা তিনি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাস্তবায়ন করতে চান।
উল্লেখ্য যে ২০০৭ সালের ১/১১ সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর দেশে ফেরার মুহূর্তে তিনি সামাজিক মাধ্যমেও তাঁর আবেগ প্রকাশ করেন। এনসিপি নেতারা মনে করছেন তারেক রহমানের এই সশরীরে উপস্থিতি দেশের ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন বা গণতান্ত্রিক উত্তরণকে আরও বেগবান করবে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ এখন আরও প্রশস্ত হলো বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন