ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৭:২৪ পিএম
দীর্ঘ ১৮ বছরের বিচ্ছেদ আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অসুস্থ মায়ের শয্যাপাশে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউ কেবিনে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তিনি।
দীর্ঘ নির্বাসন থেকে আজই দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান এবং বিমানবন্দর ও গণসংবর্ধনার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই তিনি সরাসরি হাসপাতালে ছোটেন।
আইসিইউ কেবিনে প্রবেশের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রায় দুই দশক পর মা ও ছেলের এই পুনর্মিলনীতে হাসপাতালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
তারেক রহমান আইসিইউ কেবিনে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি তাঁর মায়ের শিয়রে বসে অনেকটা সময় কাটান এবং সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।আইসিইউ কেবিনের বাইরে এ সময় অপেক্ষমাণ ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে যে দীর্ঘ সময় পর বড় ছেলেকে কাছে পেয়ে বেগম খালেদা জিয়াও কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সপরিবারে তারেক রহমানের এই উপস্থিতি বেগম জিয়ার মানসিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।তারেক রহমানের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন। তবে হাসপাতালের পরিবেশ ও রোগীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সেখানে কঠোর গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলার ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে বিকেলে ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত গণসংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমান বলেছিলেন যে সন্তান হিসেবে তাঁর মন হাসপাতালের বিছানায় থাকা মায়ের পাশেই পড়ে আছে। ভাষণ শেষ করেই তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মায়ের কাছে ছুটে যান। জিয়া পরিবারের এই পুনর্মিলনী বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন