জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে হত্যার ঘটনাকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক শোক বার্তায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা সংঘটিত এমন নৃশংস ও অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন যে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর পরাজিত শক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ফায়দা লুটতে চাইছে।
মুসাব্বিরের ওপর এই পৈশাচিক হামলা সেই অপতৎপরতারই অংশ।মির্জা ফখরুল বলেন যে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে একটি বিশেষ মহল সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সরকারকে বিব্রত করতে এবং সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বারবার এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে এসব দুষ্কৃতকারী ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের কঠোর হাতে দমনের কোনো বিকল্প নেই। না হলে ওত পেতে থাকা অপশক্তি দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে আরও মরিয়া হয়ে উঠবে। এ সময় তিনি দেশের জানমাল রক্ষায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। তিনি নিহত নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন যে মুসাব্বির দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন এবং তার এই শূন্যতা অপূরণীয়। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীরা রাজপথে সোচ্চার থাকবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য যে গত বুধবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় স্টার কাবাব হোটেলের গলিতে মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তেজগাঁও ও নয়াপল্টন এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন