জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:২২ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর শরিক হিসেবে ৩০টি আসনে লড়াই করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থী তালিকা ও আসন বণ্টনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জোটের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন সংখ্যা ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে এই জোট এখন পর্যন্ত ২৫৩টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে যার মধ্যে এনসিপিকে দেওয়া হয়েছে ৩০টি আসন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় রাজধানী ঢাকার রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপিকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকা-১১ (বাড্ডা ও ভাটারা) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ঢাকা-১৮ (উত্তরা ও খিলক্ষেত) আসন থেকে লড়বেন দলের প্রধান সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। এছাড়া ঢাকা-৯ আসনে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তসনিম জারা এবং ঢাকা-৮ আসনে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকার বাইরেও উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু হেভিওয়েট আসনে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনে লড়বেন সারজিস আলম এবং কুমিল্লা-৪ আসনে লড়বেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এনসিপির চূড়ান্ত তালিকার অন্যান্য আসনের মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর-৫ যেখানে পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী এলাকা অন্তর্ভুক্ত। রংপুর-৪ আসন থেকে লড়বেন দলের সদস্য সচিব আক্তার হোসেন। কুড়িগ্রাম-২, নাটোর-৩ (সিংড়া) এবং সিরাজগঞ্জ-৬ আসনেও এনসিপির প্রার্থী নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ-১১, মুন্সিগঞ্জ-২ এবং গাজীপুর-২ আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলেও এনসিপি জোটের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে লড়বেন আব্দুল হান্নান মাসউদ। চট্টগ্রাম-৮ এবং বান্দরবান পার্বত্য আসনেও এনসিপির প্রার্থীরা ধানের শীষ বা জোটের প্রতীকে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন।সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন এটি একটি ঐতিহাসিক যাত্রা যেখানে সংস্কারপন্থী ও বৈষম্যবিরোধী শক্তিগুলো দেশ গড়ার লক্ষ্যে একতাবদ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও জানান যে প্রতিটি আসনেই জোটের প্রার্থীরা একে অপরকে সহযোগিতা করবেন এবং গণভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলবেন। মূলত জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এবং একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি নিশ্চিত করতেই এই সমঝোতা করা হয়েছে। তবে এই আসন বণ্টনের অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের জন্য বেশ কিছু আসন এখনও শূন্য রাখা হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন